Saturday, January 1, 2011

পোলট্রি বর্জ্য থেকে জৈব সার

পোলট্রি বর্জ্য থেকে জৈব সার

জৈব পদার্থ হলো মাটির প্রাণ। মাটির প্রাণ বলে পরিচিত এই জৈব পদার্থ আমাদের দেশের জমিতে আছে মাত্র ১ ভাগ বা তারও কম। অথচ এটা থাকার কথা শতকরা ৩ থেকে ৫ ভাগ। প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থের অভাবে মাটির উর্বরা শক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে।

অন্যদিকে রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মাটির গুণাগুণ মারাত্মকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। মাটি ফসল চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আমাদের দেশে পোলট্রি বর্জ্য জৈব সারে পরিণত না করে যেখানে-সেখানে ফেলানোর ফলে মাটি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। সেই সাথে জৈব নিরাপত্তাও বিঘিíত হচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে পোলট্রি একটি বিকাশমান শিল্প। খামার এবং অন্যান্য মিলিয়ে সারদেশে মোরগ-মুরগীর সংখ্যা প্রায় ২০ থেকে ২২ কোটি। এ সব মোরগ-মুরগী থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ পোলট্রি বর্জ্যরে পাওয়া যায় তার পরিমাণ প্রায় ১.৫ থেকে ২ কোটি টন। বিশাল এই পোলট্রি বর্জ্য সঠিক ব্যবস্খাপনার অভাবে মাটি ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। প্রায় ১১ মিলিয়ন হেক্টর চাষযোগ্য জমিতে বিপুল পরিমাণ জৈব পদার্থের চাহিদা থাকার পরও আমরা জৈব সার উৎপাদন ও জমিতে ব্যবহারে উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছি।

এ সমস্যার উল্লেখযোগ্য সমাধান আসতে পারে যদি সঠিকভাবে পোলট্রি বর্জ্যরে ব্যবস্খাপনা করে তা থেকে জৈব সার তৈরি করা হয়। অবশ্য তৈরি করা হলেই সমস্যা শেষ নয়। তৈরি করা সার ব্যবহার এবং বাজারজাতকরণে সরকারি অনুমোদনও থাকতে হবে। এটা করা গেলে লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমিতে প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থ জোগান যেমন দেয়া যাবে, তেমনি রাসায়নিক সারের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতাও কমানো যাবে। সেই সাথে বিপুল অংকের টাকা ব্যয় করে বিদেশ থেকে রাসায়নিক সার আমদানিও কমানো যাবে।

অথচ আমাদের চাষযোগ্য জমির আগামী দিনের কথা ভাবতে হলে জৈব সারের মানদণ্ড তৈরি করা খুবই জরুরি। বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে সরকারের জৈব সার তথা কম্পোস্টের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিৎ। পোলট্রির বর্জ্য ব্যবস্খাপনার মাধ্যমে যদি জৈব সার তৈরির সুযোগ দেয়া হয় তাহলে তা আমাদের কৃষিকে সামনের দিকে এক ধাপ এগিয়ে নেবে। চাষিদের সারের জন্য লাইন দিতে হবে না। সেটা না হলে তাদের সময় বাঁচবে, চাষের ক্ষেত্রে ব্যয়ও কমবে। বìধ হবে চাষিদের হয়রানি তথা সার রাজনীতি। চাষির উৎপাদন ব্যয় কমলে বাজারের দ্রব্য মূল্যের ওপরও তার প্রভাব পড়বে। ফলে কৃষিতে রচিত হবে চাষিদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির কথা।
Source:
http://bangladeshagri.com

ইউরিয়ার বিকল্প মুরগির বিষ্ঠাধানের উৎপাদন খরচ কমবে প্রায় অর্ধেক তাওহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জমির উর্বরতা রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশের কৃষি গবেষকরা বিকল্প পদ্ধতি উদ্ভাবনে প্রতিনিয়তই গবেষণা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ধান চাষের ক্ষেত্রে পোলট্রি শিল্পের প্রধান বর্জ্য তথা মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করে রাসায়নিক সারের (ইউরিয়া) ব্যবহার শতকরা ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কমাতে এবং জমির উর্বরতা বাড়িয়ে ফসলের উৎপাদন ১৫ ভাগ বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। যা মোট উৎপাদন খরচের প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দিতে পারে।
২০০৮ সালে 'বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)'-এর অর্থায়নে 'ধানের বৃদ্ধি, ফলন ও মানের ওপর মুরগির বিষ্ঠা, গুঁড়া ও গুটি ইউরিয়ার প্রভাব' শীর্ষক তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মাঠ গবেষণাগারে গবেষণা শুরু হয়। গবেষণায় প্রকল্প প্রধান হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহমান সরকার এবং তাঁকে সহযোগিতার জন্য একই বিভাগের অধ্যাপক সাঈদুল হক চৌধুরী (বর্তমানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য) এবং পিএইচডি গবেষক মো. হুমায়ুন কবীরকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের গবেষণার যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত এরই মধ্যে তিনটি বিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
সারের প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে গবেষণা সহকারী হুমায়ুন কবীর জানান, ধান রোপণের আগে জমি তৈরির সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ মুরগির বিষ্ঠা জমিতে দিতে হবে। তবে সরাসরি ওই বিষ্ঠা দেওয়া যাবে না। এর আগে অবশ্যই কমপক্ষে সাত দিন মুরগির বিষ্ঠা পচিয়ে নিতে হবে। এ জন্য মাটির ওপর খোলা অবস্থায় বিষ্ঠা রেখে দিলেই চলবে। তবে উপরে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। জমিতে ইউরিয়ার পরিবর্তে সার হিসেবে শুধুই মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করা হলে হেক্টরপ্রতি পাঁচ টন বিষ্ঠা প্রয়োজন হবে। আবার গুটি ইউরিয়ার সঙ্গে একত্রে প্রয়োগ করলে হেক্টর প্রতি আড়াই টন বিষ্ঠা দিলেই চলবে।
অধ্যাপক ড. আবদুর রহমান সরকার জানান, দেশে পোলট্রি খামার বাড়ছে। এসব খামারে প্রতিনিয়তই বিপুল পরিমাণ পোলট্রি বর্জ্য তথা মুরগির বিষ্ঠা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বর্জ্য ফেলে না দিয়ে যথাযথ উপায়ে কৃষি জমিতে প্রয়োগ করা হয় তবে রাসায়নিক সারের ব্যবহার অনেকাংশে কমে যাবে। তাঁর মতে, দেশে বছরে ইউরিয়া সারের চাহিদা প্রায় ২৮ লাখ টন হলেও উৎপাদন হয় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। ফলে সরকারকে মোটা অংকের অর্থ খরচ করে বিদেশ থেকে ১২-১৩ লাখ টন সার আমদানি করতে হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, গুঁড়া ইউরিয়া সারের পরিবর্তে সঠিক মাত্রায় গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করলে ধান চাষে শতকরা ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ ইউরিয়া অনায়াসে সাশ্রয় সম্ভব। আমন মৌসুমে হেক্টরপ্রতি শতকরা ২৪ ভাগ এবং বোরো মৌসুমে শতকরা ২৩ ভাগ উৎপাদন খরচ কমেছে। অন্যদিকে ধানের মোট উৎপাদন হেক্টরপ্রতি শতকরা ১৫ ভাগ বেড়েছে।
গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে ড. আবদুর রহমান বলেন, ইউরিয়া সারের পরিবর্তে জৈব সার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা অনেকটাই কার্যকর। চাষের শুরুতে মাটিতে মিশে যাওয়ার ফলে এর গুণাগুণ দীর্ঘদিন স্থায়ী থাকে। বিষ্ঠা নাইট্রোজেন উৎপাদন করে গাছ সবুজ ও সতেজ রাখে।
Source: Daily Kalerkantho

1 comment:

  1. আমাদের গ্রামের একজন অভিগ্য কৃষক মোঃ ফরিদ ভাই বলেছেন যে,তাহা (ব্রয়লার মুরগির বর্জ)কমপক্ষে এক মাস রোদ্রে শুকিয়ে বা কোনো স্থানে রেখে তাহার গ্যাস দূর করতে হবে। অন্যথায় নাকি জমির সঠিক গুনাগুন এবং গাছের শিকর নষ্ট হয়ে যায়। যদিও প্রথমে জমিতে গাছের গ্রোধ অনেক বৃদ্ধি পায়। আসলে বিষয়টি কী? (ঢাকা- নরসিংদী- পুটিয়া মোড়)

    ReplyDelete